নেত্রকোনার পূর্বধলায় আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতিকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম।
এ ঘটনায় গত রোববার রাতে বিএনপি নেতা সেলিম উদ্দীনসহ চারজনের বিরুদ্ধে পূর্বধলা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আমিনুল ইসলাম। তিনি আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি এবং হোগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
অভিযোগে অন্য তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকী মামুন, দেওটুকোন আব্দুল গণি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিউটন সরকার এবং আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আশিক।
আমিনুল ইসলামের দাবি, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহের এক আদেশে গত ১ নভেম্বর তাঁকে আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মনোনীত করা হয়। এ পদে বিএনপি নেতা সেলিম উদ্দীনের ছেলে মনোনীত না হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগ করেন আমিনুল।
তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাঁকে পূর্বধলা উপজেলা সদরের বাসা থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আগিয়া ইউনিয়নের কুমারখালী বাজারে সেলিম উদ্দীনের রাইস মিলে নিয়ে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাটি কাউকে জানালে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা সেলিম উদ্দীন। তাঁর বক্তব্য, প্রথমে তিনি বিষয়টি জানতেন না। পরে আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফোন করে তাঁকে জানান, আমিনুল ইসলাম নিজেই পদত্যাগ করতে এসেছেন। খবর পেয়ে তিনি রাইস মিলের চেম্বারে যান। সেলিম উদ্দীনের দাবি, আমিনুল ইসলাম আগেই তাঁকে সভাপতি পদে থাকতে অনাগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন এবং স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে অপর অভিযুক্ত নিউটন চন্দ্র সরকার বলেন, ঘটনাটি তাঁর বাড়ির পাশেই ঘটেছিল। কুমারখালী বাজারে অবস্থানকালে অনেক লোকের উপস্থিতি দেখে তিনি সেখানে যান। তবে এ ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযুক্ত অপর দুজনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য যাচাই করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব।
মতামত