নেত্রকোনার দুর্গাপুরে শরৎ উদযাপন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ উপলক্ষে সোমেশ্বরী নদীর তীরের কাশবন প্রাঙ্গণে মিলনমেলায় মিলিত হন কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে শহীদ সন্তোষ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নদীর চরে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। কথা, কবিতা ও গানে মুখর হয়ে ওঠে উৎসব প্রাঙ্গণ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যক্ষ শহীদ খান। সংগঠনের সভাপতি পলাশ সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কবি বিদ্যুৎ সরকার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি এনামুল হক পলাশ, কবি লোকান্ত শাওন, কবি অনিন্দ্য জসিম, কবি বকুল মাস্টার, কবি দুনিয়া মামুন ও কবি সজীম সাইমসহ অনেকে।
শিশুদের নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে ‘সবুজ সুরের সন্ধানে’ সিজন-১-এর শীর্ষ দশে স্থান পাওয়া শিল্পী মিজানুর রহমান কাঞ্চন ও তাঁর দল সংগীত পরিবেশন করেন। উৎসবে গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করা হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কবি এনামুল হক পলাশ বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও তার বহুমাত্রিক ঐতিহ্য নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “জনগণের সংস্কৃতি ছাড়া অন্য কোনো সংস্কৃতি গ্রহণযোগ্য নয়। সকল সংস্কৃতি একটি স্বতঃস্ফূর্ত ক্রিয়া। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সংস্কৃতির কাল্ট বানানো যাবে না, কিন্তু বাংলাদেশের সংস্কৃতি থেকে তাকে আলাদা করার সুযোগ নেই।”
তিনি আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমালোচনা করা যাবে না—এমন কোনো কথা নেই। একই সঙ্গে বৌদ্ধ সহজিয়া সাধু, সুফি, চৈতন্য, লালন, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলসহ কাউকেই বাংলাদেশের সংস্কৃতির পরিসর থেকে বাদ দেওয়া যাবে না।
সোমেশ্বরী নদীর চরে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত এ উৎসবে অংশ নিয়ে অতিথিরা আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিল্পীরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
মতামত