ঢাকা    সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
নেত্র দেশ ২৪

বিরহী কবি মাজেদুল হক: ছন্দ, সৃজনশীলতা ও জীবনবোধের অনন্য কাব্যভুবন

বিরহী কবি’ উপাধিতে ভূষিত, ছান্দসিক রীতির সুপরিচিত ও জনপ্রিয় কবি মাজেদুল হক সৃজনশীল সাহিত্যের একজন ধ্রুপদি স্বপ্নদ্রষ্টা। প্রথাগত ছন্দের পাশাপাশি আধুনিক গদ্যছন্দেও তিনি দেখিয়েছেন মুন্সিয়ানা। কবিতায় ছন্দের ব্যবহার, নতুন ছন্দরীতি ও ছন্দকাঠামো নির্মাণ এবং স্বতন্ত্র ছন্দরীতিতে নান্দনিক কবিতা রচনার মাধ্যমে তিনি নিজের সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন।ছন্দের নিয়ম, মাত্রার হিসাব এবং কবিতার শিল্পগুণ সম্পর্কে কবির নিজস্ব ভাবনা ফুটে উঠেছে তাঁর ‘ছন্দরীতি’ শিরোনামের কবিতায়।ছন্দরীতিআগে তুমি শিখে লও প্রথাগত নীতি,পরে কবি সৃষ্টি করো নব ছন্দরীতি।স্বরবৃত্ত মাত্রাবৃত্ত অক্ষরবৃত্তটি,লিখিবে শুদ্ধ কবিতা না করিবে ত্রুটি।মুক্তক অতি মুক্তক অমিত্রাক্ষর কি?গৈরিশ ও গদ্যছন্দ মাত্রা বুঝে লিখি।অমিল সমিল সবি অন্ত্যমিলে খুঁজে,মাত্রা হিসেব করিয়া নিতে হবে বুঝে।ছন্দের নিয়মে আছে খুঁটিনাটি যত,ব্যাকরণ জেনে বুঝে করিবে আয়ত্ত।না বুঝে করিলে কিছু ফলাফল মন্দ,কবিতায় প্রয়োজন শিল্পগুণে ছন্দ।ছন্দরীতি কবিগণ করে যত সৃষ্টি,প্রতিভায় যোগ হবে প্রসন্ন সুদৃষ্টি।‘বিরহী কবি’ উপাধি লাভবিরহী কবি উপাধিতে ভূষিত সনদ(২০২২ খ্রীস্টাব্দ)কলম একাডেমি লন্ডন ও কলম টিভির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক নজরুল ইসলাম হাবিবী ২০২২ খ্রিষ্টাব্দে একাডেমির পক্ষ থেকে কবি মাজেদুল হককে বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বিরহী কবি’ উপাধিতে ভূষিত করেন। কবির সাহিত্যচিন্তা ও সৃজনশীল কাজের আলোকে তাঁকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এ উপাধি দেওয়া হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে কবিকে ‘বিরহী কবি’ উপাধিতে ভূষিত করার সনদও প্রদান করা হয়।প্রকৃতপক্ষে, কবি মাজেদুল হক সৃজনশীল সাহিত্যের একজন নিবেদিতপ্রাণ কবি। তাঁর কাব্যিক শৈলী, ছন্দের ব্যবহার এবং জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়বস্তুর উপস্থাপন তাঁকে পাঠকের কাছে স্বতন্ত্র পরিচিতি দিয়েছে।জন্ম ও সাহিত্যচর্চার সূচনাকবি মাজেদুল হক ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দের ৩ জুলাই, ১৯ আষাঢ়, বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার সদর উপজেলার পাটলী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম এস এম কিতাব আলী এবং মাতার নাম বেগম আয়েশা খাতুন।কিশোর বয়স থেকেই লেখালেখির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। স্নাতক (বিএ) পর্যায়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় তাঁর লেখা প্রথম পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে তাঁর লেখা।প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে কর্মরত থাকার পাশাপাশি সময় ও সুযোগ পেলেই তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন সৃজনশীল সাহিত্যচর্চা। কর্মব্যস্ত জীবনের মধ্যেও লেখালেখির প্রতি তাঁর অনুরাগ অব্যাহত রয়েছে।সেরা ছড়াকার সম্মাননা২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে ‘মুক্তির আশা’ ও ‘নেত্রের আশা’ পত্রিকার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ছড়া প্রতিযোগিতায় সেরা ছড়াকার নির্বাচিত হন কবি মাজেদুল হক।

বিরহী কবি মাজেদুল হক: ছন্দ, সৃজনশীলতা ও জীবনবোধের অনন্য কাব্যভুবন