নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ভাষাসৈনিক ও উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মাস্টারের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেছে উপজেলা বিএনপি। এ উপলক্ষে কালো ব্যাজ ধারণ, শোকর্যালি, কবর জিয়ারত, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
১৯ অক্টোবর আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলীয় নেতৃবৃন্দ ভাষাসৈনিক আব্দুর রাজ্জাক মাস্টারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য দেন।
ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা
আব্দুর রাজ্জাক মাস্টার ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় মোহনগঞ্জ পাইলট স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। সে সময় তিনি বিদ্যালয়ের স্কুল ক্যাপ্টেনের দায়িত্বে ছিলেন। বাংলা ভাষার দাবিতে বিভিন্ন মিছিল ও আন্দোলন কর্মসূচিতে তিনি নেতৃত্ব দেন। পরবর্তী সময়ে নেত্রকোনার জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে ভাষাসৈনিক হিসেবে সম্মাননাও পান তিনি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সংগঠক
১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠার সময় মোহনগঞ্জে দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে আব্দুর রাজ্জাক মাস্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দীর্ঘ ২০ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে জাগদল, যা পরবর্তী সময়ে বিএনপিতে রূপ নেয়, তার উপজেলা সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আব্দুর রাজ্জাক মাস্টার একসময় ন্যাপের (হক-তোয়াহা) সদস্য ছিলেন।
১৯৩১ সালের ২৬ মার্চ মোহনগঞ্জ উপজেলার নওহাল গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর বাবা আব্দুল আজিজ এবং মা ছুলিল খুদেজা বেগম।
শিক্ষকতা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবদান
১৯৫৩ সালে মোহনগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন আব্দুর রাজ্জাক মাস্টার। পরে তিনি লাইব্রেরি সায়েন্স কোর্স সম্পন্ন করেন।
কর্মজীবনে মোহনগঞ্জ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে লাইব্রেরিয়ান হিসেবে যোগ দেন তিনি। পরবর্তী সময়ে একই বিদ্যালয়ে বাংলা শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষা ও সংস্কৃতির পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনেও তাঁর অবদান ছিল। তিনি শতাধিক যাত্রাপালা ও নাটক পরিচালনা করেন এবং কোচ হিসেবেও কাজ করেন। ভাষাজ্ঞান, ইংরেজিতে দক্ষতা ও সাহিত্য গবেষণায় তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল। মোহনগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চবিদ্যালয় ও ডিগ্রি কলেজের পরিচালনা কমিটিতেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
২০১৩ সালে মৃত্যু
২০১৩ সালের ১৯ অক্টোবর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আব্দুর রাজ্জাক মাস্টার। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান।
তাঁর জ্যেষ্ঠ ছেলে মো. সেলিম কার্ণায়েন বাবার রাজনৈতিক পদাঙ্ক অনুসরণ করে মোহনগঞ্জের বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত রয়েছেন। বর্তমানে তিনি মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ভাষা আন্দোলন, শিক্ষকতা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক সংগঠনে আব্দুর রাজ্জাক মাস্টারের অবদান স্মরণ করে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানান দলীয় নেতাকর্মীরা।
মতামত