ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নেত্র দেশ ২৪

সাংবাদিক আলীফের পরিবারকে ১ লাখ টাকা দিলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

সাংবাদিক আলিফ ফকিরের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন ডেপুটি স্পিকার



সাংবাদিক আলিফ ফকিরের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন ডেপুটি স্পিকার
দুর্গাপুরে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলীফ ফকিরের পরিবারকে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা ও পোশাকসামগ্রী দেওয়া হয়েছে।

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলীফ ফকিরের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর–কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তাঁর পক্ষ থেকে নিহত সাংবাদিকের পরিবারকে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় পোশাকসামগ্রী দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির নেতারা নিহত সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদের হাতে এ সহায়তা তুলে দেন। এ সময় তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

উপজেলা বিএনপির নেতারা জানান, নিহত সাংবাদিকের পরিবারের প্রতি ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। স্বজন হারানোর এই কঠিন সময়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও তাঁরা আশ্বাস দেন।

সহায়তা প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভূঁইয়া, শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ শহীদ খান, সহসভাপতি এম এ জিন্নাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার তেলুঞ্জিয়া এলাকায় গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলীফ ফকির। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘রূপসী বাংলা’র নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে মাদক কারবার, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়মের বিষয়ে তথ্য তুলে ধরতেন তিনি।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে আলীফ তেলুঞ্জিয়া এলাকার একটি দোকানে আগে রেখে যাওয়া মুঠোফোন নিতে যান। এ সময় দুই যুবক তাঁর পিছু নেয়। কিছুক্ষণ পর সেখানে গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ আলীফকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আলীফ ফকিরের পৈতৃক বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনুই গ্রামে। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে দুর্গাপুরের তেলুঞ্জিয়া এলাকায় বসবাস করতেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে আটজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।

সাংবাদিক আলীফ ফকিরের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার, সহকর্মী ও স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন সাংবাদিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

বিষয় : ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাংবাদিক আলীফ ফকির, দুর্গাপুর সংবাদ নেত্রকোনা সংবাদ, সাংবাদিক হত্যা, আর্থিক সহায়তা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

নেত্র দেশ ২৪

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


সাংবাদিক আলিফ ফকিরের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন ডেপুটি স্পিকার

প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
দুর্গাপুরে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলীফ ফকিরের পরিবারকে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা ও পোশাকসামগ্রী দেওয়া হয়েছে।

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলীফ ফকিরের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর–কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তাঁর পক্ষ থেকে নিহত সাংবাদিকের পরিবারকে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় পোশাকসামগ্রী দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির নেতারা নিহত সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদের হাতে এ সহায়তা তুলে দেন। এ সময় তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

উপজেলা বিএনপির নেতারা জানান, নিহত সাংবাদিকের পরিবারের প্রতি ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। স্বজন হারানোর এই কঠিন সময়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও তাঁরা আশ্বাস দেন।

সহায়তা প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভূঁইয়া, শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ শহীদ খান, সহসভাপতি এম এ জিন্নাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার তেলুঞ্জিয়া এলাকায় গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলীফ ফকির। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘রূপসী বাংলা’র নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে মাদক কারবার, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়মের বিষয়ে তথ্য তুলে ধরতেন তিনি।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে আলীফ তেলুঞ্জিয়া এলাকার একটি দোকানে আগে রেখে যাওয়া মুঠোফোন নিতে যান। এ সময় দুই যুবক তাঁর পিছু নেয়। কিছুক্ষণ পর সেখানে গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ আলীফকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আলীফ ফকিরের পৈতৃক বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনুই গ্রামে। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে দুর্গাপুরের তেলুঞ্জিয়া এলাকায় বসবাস করতেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে আটজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।

সাংবাদিক আলীফ ফকিরের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার, সহকর্মী ও স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন সাংবাদিক সমাজের প্রতিনিধিরা।


নেত্র দেশ ২৪

ব্যবস্থাপনা পরিচালক: আসিফ খান
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ রফিকুল ইসলাম শেখ

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত নেত্র দেশ ২৪