নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌর শহরের মাইলোড়ায় সুজন পাল (৩০) নামের এক যুবককে গুলি করে গুরুতর আহত করার ঘটনায় তিন দিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। কারা এবং কী কারণে তাঁকে গুলি করেছে, তা এখনো স্পষ্ট হয়নি। এদিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুজনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। হামলার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।যেভাবে গুলিবিদ্ধ হন সুজনস্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ অক্টোবর রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘুম থেকে উঠে হাঁটতে বের হন সুজন পাল। পরে হাত-মুখ ধোয়ার জন্য তিনি মোহনগঞ্জ পৌর শহরের মাইলোড়া এলাকার শ্রী রামকৃষ্ণ মন্দিরের সামনের একটি পুকুরে যান।হাত-মুখ ধোয়া শেষে পুকুর থেকে উঠে পাশের পাকা সড়কে ওঠার সময় মোটরসাইকেলে আসা এক ব্যক্তি তাঁর কাছে দুবাইপ্রবাসী পলাশ সাহার বাড়ির ঠিকানা জানতে চান। একপর্যায়ে মোটরসাইকেলে থাকা ওই ব্যক্তি অস্ত্র বের করলে ভয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন সুজন। তখন পেছন থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। গুলিটি তাঁর ডান কাঁধের পেছনের দিকে লাগে।পরে মোটরসাইকেল আরোহী ওই ব্যক্তি দেওথান কালীমন্দিরের দিকে চলে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে সুজনকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।স্বামীর চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগে স্ত্রীসুজন পাল নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার মেন্দিপুর গ্রামের জিতেন্দ্র পালের ছেলে। তিনি মোহনগঞ্জ পৌর শহরের খোকন পালের ‘মনোরমা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে’ কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। স্ত্রী টুম্পা পালকে নিয়ে তিনি মাইলোড়া পাক্কাবাড়ি এলাকায় এসআই তন্ময় সাহার বাসায় ভাড়া থাকতেন।সুজনের স্ত্রী টুম্পা পাল বলেন, “আমাদের তো কোনো শত্রু নেই। কে করল আমার স্বামীর এই সর্বনাশ! অপারেশন করে পিঠের পেছনের দিকে ডান পাশে ভেতরে আটকে থাকা গুলি বের করা হয়েছে। তাঁর শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা। ভগবানের আশীর্বাদে এখনো পর্যন্ত আমার স্বামী বেঁচে আছে।”চিকিৎসাধীন স্বামীর কষ্টের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, তীব্র ব্যথার কারণে হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকে তাঁকে মুখে কোনো খাবার দেওয়া হচ্ছে না। শরীরে হাত লাগলেও প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। দেড় বছরের শিশুসন্তানকে বাড়িতে রেখে স্বামীর সঙ্গে হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে তাঁকে।ঘটনার বর্ণনা দিয়ে টুম্পা পাল বলেন, মোটরসাইকেলে আসা এক ব্যক্তি দুবাইপ্রবাসী পলাশ সাহার বাড়ির ঠিকানা জানতে চান। এরপরই মোটরসাইকেলে থাকা ব্যক্তি অস্ত্র বের করেন। সুজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁর পিঠের ডান পাশে গুলি করা হয়। পরে হামলাকারী মোটরসাইকেলে করে দেওথান কালীমন্দিরের দিকে চলে যান।হত্যাচেষ্টা মামলা, তদন্ত করছে পুলিশমোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর ইসলাম হারুন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় সুজন পালের স্ত্রী টুম্পা পাল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেছেন।ওসি বলেন, “মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। আমরা এ রহস্যের উদ্ঘাটন করব, ইনশাআল্লাহ।”তবে ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার না করার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন, হামলাকারীকে শনাক্ত এবং আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।