ঢাকা    রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
নেত্র দেশ ২৪

মোহনগঞ্জে ইউএনও’র বিরল মানবিক দৃষ্টান্ত

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে অসুস্থ ও পরিচয়হীন এক ব্যক্তির চিকিৎসার ব্যবস্থা করে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন। শুধু চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়াই নয়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দোয়া ও মিলাদের আয়োজনও করেন তিনি।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহনগঞ্জ পৌর এলাকার পাটপট্টিতে একটি গুদামের বারান্দায় কয়েক দিন ধরে অবস্থান করছিলেন মধ্যবয়সী এক অজ্ঞাত ব্যক্তি। তাঁর পায়ে গুরুতর সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল। ক্ষতস্থান থেকে রক্ত ও পুঁজ বের হওয়ার পাশাপাশি সেখানে পোকাও দেখা যায়। তিনি কারও সঙ্গে কথা বলছিলেন না এবং তাঁর আচরণও ছিল অস্বাভাবিক।বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় চাল ও পাট ব্যবসায়ী এবং তালুকদার ট্রেডার্সের মালিক মো. জাকির হোসেন শাহিনের। তিনি কয়েক দিন ধরে ওই ব্যক্তিকে খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন। মশার উপদ্রব থেকে রক্ষায় কয়েলের ব্যবস্থাও করেন। পরে তাঁর বন্ধু মুশফিকুর রহমান বকুলের মাধ্যমে বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে আসে।এদিকে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কামরুল ইসলাম রতন বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। পরে মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুনের সহযোগিতায় অসুস্থ ব্যক্তিকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।ইউএনও আমেনা খাতুনের অনুরোধে সাংবাদিক কামরুল ইসলাম রতন তাঁকে ময়মনসিংহে নিয়ে যান। সেখানে হাসপাতালে ভর্তি ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। পরে নেত্রকোনার জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা এবং চিকিৎসকদের পরামর্শে ওই ব্যক্তির উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর অস্ত্রোপচারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল।তবে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান ওই অজ্ঞাত ব্যক্তি। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। পরে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফনের ব্যবস্থা করার কথা রয়েছে।ওই ব্যক্তির মৃত্যুর পরও মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখেন ইউএনও আমেনা খাতুন। তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়।পরিচয়হীন ও অসহায় একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় সহযোগিতার জন্য ব্যবসায়ী জাকির হোসেন শাহিন, মুশফিকুর রহমান বকুল, সাংবাদিক কামরুল ইসলাম রতন, ইউএনও আমেনা খাতুনসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মোহনগঞ্জে ইউএনও’র বিরল মানবিক দৃষ্টান্ত