মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৯,০০০ সৈন্য, নাবিক ও মেরিন সমন্বিত একটি নতুন নৌবহর পাঠিয়েছে এবং তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পদক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বড় আকারের আক্রমণের সম্ভাবনা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বহরে সাত হাজারের বেশি নাবিক ও প্রায় দুই হাজার মেরিন রয়েছে। এতে ইউএসএস থিওডোর রোজভেল্ট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, ইউএসএস মেকিন আইল্যান্ড অ্যামফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ এবং ইউএসএস জন পি. মুর্থা, ইউএসএস অ্যানকরেজের মতো মেরিন বহনকারী জাহাজ অন্তর্ভুক্ত। বহরটি মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছালে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীর সংখ্যা তিনটিতে বৃদ্ধি পাবে; বর্তমানে ইউএসএস জর্জ এইচ.ডব্লিউ. বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন সেখানে সক্রিয়। এছাড়া ইউএসএস বক্সার অ্যামফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপও ইতিমধ্যে মোতায়েন রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মোট নাবিক ও মেরিনের সংখ্যা বিশ হাজারেরও বেশি হতে পারে এবং কয়েক শ সামরিক বিমানসহ উপস্থিতি শক্তিশালী হবে। এই সামরিক তৎপরতা ঘটছে যখন ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন আক্রমণের সম্ভাবনা প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছেন। তিনি ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে বোমাবর্ষণ বাড়ানোর কথা বলেছেন, যদিও নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকার করেছেন। একই সময়ে ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন, যার মধ্যে হরমুজ জ্বালানি পরিবহনপথের মুক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল। হরমুজ প্রণালি বিশ্ব তেলের প্রধান রুটগুলোর একটি; এখানে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং হরমুজে ইরানের প্রভাব কমানোর প্রচেষ্টা এ বিষয়কে আরও জটিল করে তুলেছে। ইরানের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে এমন একটি ঘটনার মধ্যে, একটি ফ্লাইডুবাই বিমানতে কো‑পাইলটের ছুরিকাঘাতের অভিযোগ রয়েছে। ট্রাম্পের মতে, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই ঘটনার সঙ্গে ইরানের সংযোগ থাকতে পারে, তবে তিনি কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেননি। আন্তর্জাতিক তদন্ত চলমান থাকায় এই সংযোগের নিশ্চিততা এখনো অনিশ্চিত। ব্রিটেনেও ইরান‑সংশ্লিষ্ট সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তদন্ত চলছে; যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির নিকটবর্তী নিরাপত্তা ঘটনার পর কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং লন্ডনে একটি ইরান‑ব্রিটিশ নাগরিককে সন্ত্রাসী পরিকল্পনার সন্দেহে আটক করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, তবে যুদ্ধবিরতি বা কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া যায় না। নতুন রণতরী ও অতিরিক্ত সৈন্যবাহিনীর মোতায়েন মানে যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত বৃহৎ সামরিক অভিযানের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে তা নতুন আক্রমণের সিদ্ধান্ত নির্দেশ করে না। বাংলাদেশের জন্য এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব প্রধানত জ্বালানি ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে দেখা যাবে। হরমুজে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত তেলের সরবরাহ, জাহাজ চলাচল ও বীমা খরচ বাড়িয়ে দেশের আমদানি ব্যয় ও জ্বালানি মূল্যে প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বৃহৎ প্রবাসী কর্মীদের যাতায়াত ও রেমিট্যান্স প্রবাহেও সম্ভাব্য বিঘ্ন দেখা দিতে পারে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।