ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
নেত্র দেশ ২৪

দুর্গাপুরে বীরমুক্তিযোদ্ধার কন্যা জিন্নাত রেহানার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ পেয়েছেন ৩০০ নারী

নিজে সেলাইয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও গত ১০ বছর ধরে বিনা মূল্যে নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন জিন্নাত রেহানা বিউটি। তাঁর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে রয়েছেন প্রান্তিক ও প্রতিবন্ধী নারীরাও। সেলাই, হাতের কাজ ও নকশিকাঁথা তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক নারী নিজেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছেন।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে দুর্গাপুর সাংবাদিক ফোরামের গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে নিজের দীর্ঘদিনের এই উদ্যোগ ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন জিন্নাত রেহানা বিউটি।তিনি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা এবং মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা তারা মিয়ার মেয়ে। বর্তমানে দুর্গাপুর পৌরসভার বাগিচাপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন তিনি। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।প্রায় ২০ বছর ধরে সেলাইয়ের কাজের সঙ্গে যুক্ত জিন্নাত রেহানা। নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এক দশক আগে বিনা মূল্যে নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য, নারীরা যেন নিজেরাই কাজ শিখে আয় করতে পারেন এবং পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতায় ভূমিকা রাখতে পারেন।নিজ উদ্যোগে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ নারীকে বিনা মূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ৬০ থেকে ৭০ জন নারীকে হাতের সুঁই-সুতার সূক্ষ্ম কাজ শিখিয়েছেন। নকশিকাঁথা তৈরির প্রশিক্ষণও দিয়েছেন অনেক নারীকে। তাঁর এ উদ্যোগে নারীরা নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি ঘরে বসে কাজ শেখার সুযোগ পাচ্ছেন।সেলাই প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পরিবেশের প্রতি সচেতনতা থেকেও কাজ করছেন জিন্নাত রেহানা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে বিরিশিরি থেকে চৈতাটি সড়ক পর্যন্ত প্রায় ২০০টি তালবীজ রোপণ করেন তিনি।জিন্নাত রেহানা বিভিন্ন ধরনের পোশাকে নকশা ও হাতের কাজ করেন। পাঞ্জাবি, কুর্তি, সালোয়ার-কামিজ, ব্লাউজ, শাড়ি, গাউনসহ বিভিন্ন পোশাকে নিজের সৃজনশীলতার ছাপ রাখেন। বিশেষ করে নকশিকাঁথা তৈরিতে তাঁর আগ্রহ ও দক্ষতা রয়েছে। এসব কাজের মাধ্যমে নিজের জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি অন্য নারীদেরও কাজ শেখানোর চেষ্টা করছেন তিনি।তাঁর এই উদ্যোগে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন মেয়ে কামরুন্নাহার মুন্নি। পরিবারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নারীদের দক্ষ করে তোলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন জিন্নাত রেহানা। নিজের তৈরি পণ্য, নকশিকাঁথা ও কাজের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরতে তাঁর রয়েছে ‘রঙ্গালয়’ নামের একটি ফেসবুক পেজ।তবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়ছেন তিনি। প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ, কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো এবং আরও বেশি নারীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে উঠছে।জিন্নাত রেহানা বিউটি তাঁর উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, দাতা সংস্থা ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। বিশেষ করে নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।তাঁর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত করা সম্ভব হবে। এতে দুর্গাপুরের আরও অনেক অসচ্ছল নারী সেলাই ও হস্তশিল্পের কাজ শিখে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন।জিন্নাত রেহানা বিউটির এই উদ্যোগ শুধু সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন এবং পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার একটি প্রচেষ্টা। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে তাঁর এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে নারীদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

দুর্গাপুরে বীরমুক্তিযোদ্ধার কন্যা জিন্নাত রেহানার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ পেয়েছেন ৩০০ নারী