ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
নেত্র দেশ ২৪

জলবায়ু পরিবর্তনে কমে যাচ্ছে পেঙ্গুইন



জলবায়ু পরিবর্তনে কমে যাচ্ছে পেঙ্গুইন
জলবায়ু পরিবর্তনে কমে যাচ্ছে পেঙ্গুইন

অ্যান্টার্কটিকার জাভোদোভস্কি দ্বীপের বিশ্বের বৃহত্তম পেঙ্গুইন বসতিতে জলবায়ু পরিবর্তনে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দ্বীপটির চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের সংখ্যা প্রায় ৬৩ শতাংশ কমে গেছে। এতে ৫ লাখেরও বেশি প্রজননক্ষম পেঙ্গুইন হারিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। দক্ষিণ স্যান্ডউইচ দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে উত্তরের দ্বীপ জাভোদোভস্কি একসময় বিশ্বের সবচেয়ে বড় বড় পেঙ্গুইনদের আবাসস্থল ছিল। ২০১১ সালে সেখানে প্রায় ১০ লাখ ৯০ হাজার প্রজননক্ষম চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইন ছিল। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, সেই সংখ্যা কমে প্রায় ৪ লাখ ২ হাজারে দাঁড়িয়েছে। ফলে দ্বীপটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় পেঙ্গুইন কলোনির মর্যাদাও হারিয়েছে। এখন সেই মর্যাদা অ্যান্টার্কটিকার রস সাগরের কেপ অ্যাডারে চলে গেছে। ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের গবেষকরা ড্রোন জরিপ, আকাশ থেকে তোলা ছবি, স্যাটেলাইট তথ্য এবং পেঙ্গুইনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই পরিবর্তন শনাক্ত করেছেন। গবেষণাটি ‘কারেন্ট বায়োলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ সম্ভবত জলবায়ু পরিবর্তন। উষ্ণ হয়ে উঠছে দক্ষিণ মহাসাগরের পানি। এর ফলে চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের প্রধান খাদ্য অ্যান্টার্কটিক ক্রিল দক্ষিণ দিকে সরে যাচ্ছে। কিন্তু চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইন সাধারণত দ্বীপটির উত্তর-পশ্চিমের অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা পানিতে খাদ্য সংগ্রহ করে। দক্ষিণে ক্রিলের নতুন অবস্থানে পৌঁছানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। সমুদ্রের বরফ এবং উপযুক্ত বাসা তৈরির জায়গার অভাবও তাদের খাদ্য অনুসরণে বাধা দিচ্ছে। গবেষক নরম্যান র‌্যাটক্লিফ বলেন, এটি চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক পতন। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেঙ্গুইনগুলোর খাদ্য সরবরাহের অবস্থানও বদলে যাচ্ছে। তবে একই দ্বীপে থাকা ম্যাকারনি পেঙ্গুইনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। -দ্য গার্ডিয়ান

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

নেত্র দেশ ২৪

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


জলবায়ু পরিবর্তনে কমে যাচ্ছে পেঙ্গুইন

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

অ্যান্টার্কটিকার জাভোদোভস্কি দ্বীপের বিশ্বের বৃহত্তম পেঙ্গুইন বসতিতে জলবায়ু পরিবর্তনে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দ্বীপটির চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের সংখ্যা প্রায় ৬৩ শতাংশ কমে গেছে। এতে ৫ লাখেরও বেশি প্রজননক্ষম পেঙ্গুইন হারিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। দক্ষিণ স্যান্ডউইচ দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে উত্তরের দ্বীপ জাভোদোভস্কি একসময় বিশ্বের সবচেয়ে বড় বড় পেঙ্গুইনদের আবাসস্থল ছিল। ২০১১ সালে সেখানে প্রায় ১০ লাখ ৯০ হাজার প্রজননক্ষম চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইন ছিল। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, সেই সংখ্যা কমে প্রায় ৪ লাখ ২ হাজারে দাঁড়িয়েছে। ফলে দ্বীপটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় পেঙ্গুইন কলোনির মর্যাদাও হারিয়েছে। এখন সেই মর্যাদা অ্যান্টার্কটিকার রস সাগরের কেপ অ্যাডারে চলে গেছে। ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের গবেষকরা ড্রোন জরিপ, আকাশ থেকে তোলা ছবি, স্যাটেলাইট তথ্য এবং পেঙ্গুইনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই পরিবর্তন শনাক্ত করেছেন। গবেষণাটি ‘কারেন্ট বায়োলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ সম্ভবত জলবায়ু পরিবর্তন। উষ্ণ হয়ে উঠছে দক্ষিণ মহাসাগরের পানি। এর ফলে চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের প্রধান খাদ্য অ্যান্টার্কটিক ক্রিল দক্ষিণ দিকে সরে যাচ্ছে। কিন্তু চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইন সাধারণত দ্বীপটির উত্তর-পশ্চিমের অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা পানিতে খাদ্য সংগ্রহ করে। দক্ষিণে ক্রিলের নতুন অবস্থানে পৌঁছানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। সমুদ্রের বরফ এবং উপযুক্ত বাসা তৈরির জায়গার অভাবও তাদের খাদ্য অনুসরণে বাধা দিচ্ছে। গবেষক নরম্যান র‌্যাটক্লিফ বলেন, এটি চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক পতন। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেঙ্গুইনগুলোর খাদ্য সরবরাহের অবস্থানও বদলে যাচ্ছে। তবে একই দ্বীপে থাকা ম্যাকারনি পেঙ্গুইনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। -দ্য গার্ডিয়ান


নেত্র দেশ ২৪

ব্যবস্থাপনা পরিচালক: আসিফ খান
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ রফিকুল ইসলাম শেখ

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত নেত্র দেশ ২৪