নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ১ নম্বর কুল্লাগড়া ইউনিয়নের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র চিনামাটির পাহাড় এলাকায় পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগে অগ্রগতি হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার করার লক্ষ্যে তদন্তকেন্দ্রটির জন্য ১৬টি অস্থায়ী রাজস্বখাতভুক্ত পদ সৃজন ও দুটি মোটরসাইকেল অনুমোদন দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।
গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা শাখা-৫ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। স্মারক নম্বর ০৭.০০.০০০০.১৫৫.৩১.০০০২.২৬.৫৫। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এ অনুমোদনের বিষয়টি জানা গেছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চিনামাটির পাহাড় পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিন ধরনের পদ সৃষ্টির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
সব মিলিয়ে মোট ১৬টি অস্থায়ী পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তকেন্দ্রের টহল ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দুটি মোটরসাইকেল টিওঅ্যান্ডইভুক্ত করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দুর্গাপুরের চিনামাটির পাহাড় একটি পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র। এখানে বিভিন্ন সময় পর্যটক ও দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, পর্যটনকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা জোরদারে সেখানে পুলিশের স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
তদন্তকেন্দ্রটি চালু হলে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত পুলিশি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে পর্যটন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, চিনামাটির পাহাড় এলাকায় পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এ উদ্যোগের পেছনে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, এলাকার জননিরাপত্তা ও পর্যটকদের সুরক্ষায় তাঁর উদ্যোগের ফলে তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের প্রক্রিয়া এগিয়েছে। এ জন্য তাঁরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
তবে প্রজ্ঞাপনে পদ সৃষ্টি ও যানবাহন অনুমোদনের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও তদন্তকেন্দ্রটির কার্যক্রম শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পরই এর কার্যক্রম শুরুর বিষয়টি স্পষ্ট হবে।