সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুর রহমানকে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে সিলেটের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. মুজিবুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এদিকে, আরিফুর রহমান বর্তমানে ঢাকার পান্থপথ এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনিবার বিকেলে তাঁর স্ত্রী ও উপজেলা প্রশাসনের একজন কর্মী তাঁকে সিলেট থেকে ঢাকায় নিয়ে যান।
এর আগে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত আনুমানিক পৌনে ১১টার দিকে তাঁর দাপ্তরিক ফেসবুক পেজে পরপর দুটি পোস্ট প্রকাশিত হয়। পোস্ট দুটিতে লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রানী মোদক (ইউএনও) দায়ী থাকবে’ এবং ‘আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার’।
পোস্টের বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পুলিশ ও আনসার সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর বাসায় যান। পরে তাঁকে জামালগঞ্জ থেকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে শনিবার বিকেলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যান।
ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর শনিবার সন্ধ্যায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল জামালগঞ্জে যান এবং বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন বলে জানা গেছে।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রানী মোদক জানান, প্রথমে তিনি জানতে পেরেছিলেন, সহকারী কমিশনারের মোবাইল ফোন হ্যাক হয়েছিল। পরে তাঁর স্ত্রী জানান, মোবাইল ফোন হ্যাক হয়নি; পোস্টগুলো আরিফুর রহমান নিজেই করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর স্ত্রী ফেসবুক পেজ থেকে পোস্টগুলো মুছে দেন বলে ইউএনও জানান।
ইউএনও আরও জানান, আরিফুর রহমানের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, তাঁর আগে থেকেই মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা ছিল। কয়েক দিন আগে জামালগঞ্জের বেহেলীতে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা দেখার পর তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তাঁর বর্তমান স্বাস্থ্যগত অবস্থা সম্পর্কে হাসপাতাল বা পরিবারের পক্ষ থেকে হালনাগাদ তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা যেতে পারে।