সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুর রহমানের ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া দুটি পোস্ট ঘিরে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। পোস্ট দুটিতে নিজের মৃত্যুর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদককে দায়ী করার কথা এবং প্রশাসন ক্যাডার থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর অসুস্থ অবস্থায় থাকা আরিফুর রহমানকে প্রথমে সিলেটে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে পোস্ট দুটি ঘিরে জামালগঞ্জে আলোচনা শুরু হয়। বিষয়টি জানার পর ইউএনও শিল্পী রানী মোদক, জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বন্দে আলীসহ পুলিশ সদস্যরা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সরকারি বাসভবনে যান।
সেখানে আরিফুর রহমানের আচরণ অস্বাভাবিক মনে হলে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. আব্দুল বাতেনকে খবর দেওয়া হয়। তিনি বাসায় গিয়ে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। স্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও আরিফুর রহমানের এমন সমস্যা হয়েছিল, তবে সেদিন পরিস্থিতি তুলনামূলক বেশি ছিল।
চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে তাঁকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে তাঁকে সেখানে নেওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যান বলে জানিয়েছেন ইউএনও শিল্পী রানী মোদক।
চিকিৎসক ও পুলিশের বক্তব্য
জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মো. আব্দুল বাতেন বলেন, খবর পেয়ে তিনি সহকারী কমিশনারের বাসায় যান। সেখানে তাঁর আচরণ দেখে প্রথমে কিছুটা বিব্রত হন। পরে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, তিনি কিছুটা অসুস্থ। এরপর তাঁকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে সিলেটে পাঠানো হয়।
চিকিৎসক আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা থাকতে পারে বলে মনে হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চিকিৎসকের আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন বা রোগ নির্ণয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।
জামালগঞ্জ থানার ওসি মো. বন্দে আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা সহকারী কমিশনারের বাসায় যান। সেখানে তাঁর আচরণ কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়। তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে জানতে পারেন, আগেও এমন ঘটনা ঘটেছিল।
ইউএনওর বক্তব্য
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রানী মোদক বলেন, সহকারী কমিশনারের ফেসবুক আইডি থেকে তাঁর নাম উল্লেখ করে পোস্ট দেওয়ার বিষয়টি তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন না। পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষণ আগেও আরিফুর রহমান তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে ইউএনওর বাসায় গিয়েছিলেন। তখন তাঁদের মধ্যে কোনো অশোভন কথাবার্তা হয়নি বলেও জানান তিনি।
শিল্পী রানী মোদক আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি বিব্রত। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় চিকিৎসকের কাছ থেকে আরিফুর রহমানের অসুস্থতার কথা জেনেছেন। তিনি সুস্থ হয়ে আবার কর্মস্থলে ফিরবেন বলে আশা প্রকাশ করেন ইউএনও।
আরিফুর রহমান প্রায় দুই মাস আগে জামালগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগ দেন। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলা সদরের সরকারি কোয়ার্টারে থাকতেন।
ঘটনার বিষয়ে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে ইউএনও জানিয়েছেন। পরে জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জামালগঞ্জে এসে বিষয়টি নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত আরিফুর রহমানের শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসার অগ্রগতি এবং ফেসবুক পোস্ট দুটি দেওয়ার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।